দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ বৈশ্বিক বড় বড় শিপিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর আরব নিউজ।
সৌদি বন্দর কর্তৃপক্ষ বা ‘মাওয়ানি’ জানিয়েছে, এ নতুন সার্ভিসগুলো বিশ্বখ্যাত শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্ক, হ্যাপাগ-লয়েড, এমএসসি ও সিএমএ সিজিএমের সহযোগিতায় পরিচালিত হবে। এ পাঁচ রুটে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৪ টিইইউ (২০ ফুট সমতুল্য ইউনিট) পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। এ রুটগুলো সৌদি আরবের বিভিন্ন বন্দরকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে।
নতুন এ রুটগুলোর নাম দেয়া হয়েছে গালফ শাটল, রেডেক্স, জেড, এই-১৯ ও এসই-৪। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ পথে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এ সেবাগুলো চালু করা হয়েছে। ফলে সৌদি আরবকে একটি বৈশ্বিক লজিস্টিক হাব বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য আরো সহজ হবে।
লজিস্টিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পদক্ষেপ বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা কাটাতে সাহায্য করবে। দুবাইভিত্তিক লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান ওয়েফাইন্ডারের সহপ্রতিষ্ঠাতা নিক বার্টলেট জানান, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি কেবল ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য একটি মানসিক চাপও তৈরি করেছে। সঠিক সময়ে জ্বালানি বা প্রয়োজনীয় রসদ পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে জাহাজ চালকদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করে। নতুন এ সার্ভিসগুলো সে ঝুঁকি কমিয়ে আনবে।
নতুন এ রুটগুলো রফতানিকারক ও আমদানিকারকদের জন্য আরো নমনীয় বিকল্প তৈরি করবে। এটি কেবল আরব উপসাগর নয়, লোহিত সাগরের করিডোরকেও শক্তিশালী করবে।
এর আগে গত ২১ মার্চ থেকে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সহায়তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল সৌদি আরব। যার মধ্যে ছিল জাহাজের ক্রু পরিবর্তন, জ্বালানি সরবরাহ এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার মতো জরুরি সেবা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’ অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশটি কেবল সাময়িক সংকটের সমাধান করছে না, বরং একটি শক্তিশালী জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ আধুনিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক সৌদি আরবকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক সেবা কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।